ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত

ইউরোজোনের ব্যাংক খাতে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা

ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে ইউরোজোনের ব্যাংকগুলো সরাসরি বড় ধরনের ঝুঁকিতে নেই।

তবে যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়লে এর প্রভাব ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিটে পড়তে পারে। ফলে ব্যাংকের মুনাফা ও আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) শীর্ষ ব্যাংক পরিদর্শক পেড্রো মাচাদো মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও বেসরকারি বাজারের অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর রয়টার্স।

পেড্রো জানান, ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোজোনের ব্যাংকগুলোর সরাসরি লেনদেনের পরিমাণ তুলনামূলক কম। ব্যাংকগুলোর মূলধনের বিপরীতে ঋণের মতো সম্পদের ঝুঁকি দশমিক ৭ শতাংশ। ব্যাংক বন্ডের মতো দায়ের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকির পরিমাণ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রতিবেশী দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করলেও এ ঝুঁকির পরিমাণ মোট সম্পদের ১ শতাংশের কম, যা প্রায় ২৭ হাজার ৮০০ কোটি ইউরো।

সরাসরি ঝুঁকির তুলনায় পরোক্ষ ঝুঁকি নিয়েই বেশি চিন্তিত ইসিবি। মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউরোজোন নিজেদের গ্যাসের জন্য উপসাগরীয় দেশ ও এশীয় পণ্যের জন্য সুয়েজ খাল রুটের ওপর নির্ভরশীল।

মাচাদো সতর্ক করে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মন্দার দিকে নিয়ে যাবে। মন্দার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়লে এবং বেকারত্ব বাড়লে ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা কমে যাবে। এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।’

এছাড়া সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার উচ্চ রাখতে বাধ্য হতে পারে। ফলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহে ব্যয় বাড়বে এবং সাধারণ ও করপোরেট গ্রাহকদের জন্য ঋণ নেয়া আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও